বেনাপোল স্থলবন্দর

গাড়ির চেসিস ও যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গাড়ির চেসিস ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে।

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গাড়ির চেসিস ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে বছরে চেসিস আমদানি হতো এক লাখ পিস, বর্তমানে হচ্ছে ৩০০-৪০০ পিস। মূলত কভিড মহামারীর সময় দেশে গাড়ির ব্যবসায় ধস নামে। ফলে আমদানি কমে যায়। অন্যদিকে উচ্চ শুল্কের গাড়ি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি থেকে সরকার বড় অংকের রাজস্ব আয় করে। কিন্তু আমদানি কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে রাজস্ব আয়েও।

জানা গেছে, পাঁচ-ছয় বছর ধরে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ করতে পারেনি। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১৬ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে। এ সময় রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। সেখানে আয় হয়েছে ৬ হাজার ১৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউজকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান বণিক বার্তাকে জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মালামাল বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়েছিল। এতে বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য গতি ফিরে পাবে বলে আশা করছি। তবে পাঁচ-ছয় বছর রাজস্ব আয়ের হার ভালো ছিল না, কারণ তখন উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি কমে গিয়েছিল।’

বেনাপোল কাস্টমস অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গাড়ির চেসিস আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৫২৮টি। এর মধ্যে ২০২০ সালে ৩৫১টি, ২০২১ সালে ২৭১, ২০২২ সালে ২৪৮, ২০২৩ সালে ২৯৮, ২০২৪ সালে ২৭০ ও ২০২৫ সালে (জুলাই-মার্চ) আমদানি হয়েছে ৯০টি।

এর আগে ২০১৬ সালে চেসিস আমদানি হয়েছিল ৭৯ হাজার ৭১৪ পিস, ২০১৭ সালে ৯১ হাজার ৪৮১, ২০১৮ সালে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১ ও ২০১৯ সালে ৫২ হাজার ৩২০ পিস।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমান বলেন, ‘গাড়ির চেসিস ও মোটর পার্টস আমদানি বেশি হলে রাজস্ব আহরণ বাড়ে। তবে কম শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হলে রাজস্ব কমবে, এটাই স্বাভাবিক।’

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি মহসিন মিলনের মতে, কভিড মহামারীর কারণে গাড়ির ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়ায় চেসিস আমদানি কমে গেছে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বণিক বার্তাকে জানান, কভিড মহামারীর কারণে সব ব্যবসায় ধস নেমেছিল, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাড়ির ব্যবসা। তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে নগদ টাকার প্রবাহ বেশি থাকলে তখন তারা গাড়ি কিনতে ও পার্টস বদলাতে উৎসাহী হয়।’ এছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরের সক্ষমতার অভাবে অনেক ব্যবসায়ী দেশের অন্য বন্দরগুলোতে চলে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

র‍্যাংগস মোটরসের যশোর অঞ্চলের এরিয়া ম্যানেজার শুভংকর বিশ্বাস জানান, পাঁচ-ছয় বছর ধরে দেশে গাড়ির ব্যবসায় চরম মন্দা ভাব বিরাজ করছে। এ কারণে কোম্পনিগুলো গাড়ি বা চেসিস আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার এইচএম শরিফুল হাসান বলেন, ‘কভিডের কারণে দেশে গাড়ির ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়ায় চেসিস আমদানি কমেছে। তবে চলতি বছর থেকে আমদানি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের সক্ষমতার অভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বন্দরের পরিধি বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।’

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার জানান, বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আমদানি পণ্যের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। স্থলবন্দরের সব ধরনের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

আরও